জেলার পাবনা বড়বাজার, মাসুম বাজার, দাশুরিয়া বাজার, বেড়া সিএন্ডবি চত্বর বাজার, সাঁথিয়া বাজার ও কাশিনাথপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুখিকচু ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আগাম জাতের শিম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও চাল কুমড়া প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁপে ও পটলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মরিচ, বেগুন, পটলসহ বিভিন্ন সবজির খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কাঁচামরিচ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
দাশুরিয়া এলাকার ফটোস্ট্যাট ও স্টুডিও ব্যবসায়ী তুহিন বলেন, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এত বেড়েছে যে সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক হাজার টাকা নিয়েও সপ্তাহের বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না।
আতাইকুলার কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, বাজারে গিয়ে কাঁচামরিচের দাম দেখে না কিনেই ফিরে আসতে হয়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হবে।
নাকালিয়া নয়নপুর এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আক্তার জানান, দিনমজুরির আয়ে চলা পরিবারের পক্ষে বর্তমানে কাঁচামরিচ কেনা প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে মরিচ ছাড়াই রান্না করতে হচ্ছে।
মাসুম বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। বেশি দামে পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনতে হচ্ছে। দাম বেশি থাকায় ক্রেতাও কমে গেছে। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষক বলেন, সীমিত আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাও বাজার অস্থিরতার অন্যতম কারণ। তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত ও আরও জোরালো বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির বাজারে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
মতামত