প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
1694
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ এএম
কা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চার এর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ১০৮তম মাসিক স্টাফ সভা
গ্রাহকসেবা আরও উন্নত ও হয়রানিমুক্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে ট্রান্সফরমার পোড়ার হার কমানো, সিস্টেম লস হ্রাস, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান জোরদার করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চার। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সমিতির প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০৮তম মাসিক স্টাফ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়। আজ বুধবার (১৭ জুন) সমিতির পক্ষ থেকে পাঠানো এক অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাসিক স্টাফ সভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ও সস্তাদায়ক রাখতে প্রধান প্রধান কারিগরি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ট্রান্সফরমার পোড়ার হার কমিয়ে আনতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সিস্টেম লস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কার্যকর আইনি উদ্যোগ বাস্তবায়ন, হুকিং বা অন্য উপায়ে নেওয়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বকেয়া বিল আদায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ডে ও নাইট (দিন ও রাত) অপারেশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও নিবিড় করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়।
গ্রাহক হয়রানি বন্ধের বিষয়ে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে সভায় বলা হয়, পল্লী বিদ্যুতের প্রতিটি গ্রাহকের উন্নত ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ভুল মিটার রিডিং গ্রহণ এবং কোনো রকম অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিল ছাড়া সঠিক সময়ে বিল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের নেগেটিভ ব্যালেন্স (ঋণাত্মক স্থিতি) সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা বা অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও লাইনম্যানদের সুরক্ষায় নিয়মিত নিরাপত্তা সভা আয়োজন এবং লাইনে কাজের সময় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাত ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে কর্মীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, কাজের সরঞ্জাম ও টুলসের নিয়মিত গুণগত মান পরীক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি সুদৃঢ়করণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভালো কাজের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা পুরস্কার প্রদান এবং সমিতির যানবাহন, কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জামের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চার এর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের গ্রাহক হয়রানি বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রাহকদের দ্রুত, নির্ভুল, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে সবাইকে টিমওয়ার্ক বা সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।