ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমির ওপরের অংশ (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে। ভেকু দিয়ে দিন-রাত মাটি কেটে তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। এতে জমির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক।
সরেজমিনে উপজেলার চাড়োলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, জাওনিয়া তিরন্নই নদী সংলগ্ন এলাকা ও ফসলি জমি থেকে ৫-৬ ফুট গভীর করে মাটি তুলে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এসব মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে শত শত অনুমোদনহীন ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক। মাটি চুইয়ে পড়ে সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আমিরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের জমি থেকে মাটি কিনে নিচ্ছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ মাটি কাটার ফলে পাশের আবাদী জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, জমির টপ সয়েল কাটলে উর্বরতা ফিরতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসানুল হক জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই চক্রটি পালিয়ে যায়। ফসলি জমি রক্ষায় আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মতামত