ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে দেশের শীর্ষ দুই সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবের ফলে শুক্রবার পত্রিকা দুটির কোনো মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল বিক্ষোভকারী। তারা ভবনের প্রতিটি তলায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পাশের ডেইলি স্টার ভবনেও একইভাবে হামলা চালানো হয়। এসময় ভবনের ভেতরে আটকা পড়া প্রায় ৩০ জন সংবাদকর্মী প্রাণ বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভোর ৫টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি ভবনের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ক্যামেরা ও মূল্যবান সরঞ্জাম লণ্ডভণ্ড ও লুট করা হয়েছে। প্রথম আলোর হিসাব বিভাগ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির কার্যালয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ডেইলি স্টারের লকার ও লেন্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরদিন শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দুই পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি এই হামলাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
১০ দেশের জোট মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মুক্ত সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে কারওয়ান বাজার এলাকায় পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মতামত