সারাদেশ

পাবনা জজকোর্টে দুদকের পিপি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তুঙ্গে আওয়ামী লীগ কানেকশন ও স্বজনপ্রীতি গুঞ্জন

প্রিন্ট
পাবনা জজকোর্টে দুদকের পিপি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তুঙ্গে আওয়ামী লীগ কানেকশন ও স্বজনপ্রীতি গুঞ্জন

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:৪৭

পাবনা জজকোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল জাহিদ রানার সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে সাধারণ আইনজীবী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পতিত স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে আবারও বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট আব্দুল জাহিদ রানা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে তিনি আদালত অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনজীবীদের একটি বড় অংশের দাবি, যে সরকারের আমলে দেশজুড়ে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে, সেই দলের একজন উপদেষ্টাকে যদি দুর্নীতি দমনের পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে আওয়ামী আমলে হওয়া দুর্নীতির সঠিক বিচার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল জাহিদ রানার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আব্দুল রকিব পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পরিবারের এমন ঘনিষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আব্দুল জাহিদ রানাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি আদালত পাড়ায় টক অব দ্য টাউন-এ পরিণত হয়েছে।

আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্বেগ পাবনার সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাহিদ রানা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ আসামিদের হয়রানি করেছেন এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে নিজের আখের গুছিয়েছেন। পাবনার স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের মতে, স্বৈরাচারের দোসররা যদি আবারও বিচার বিভাগে পুনর্বাসিত হয়, তবে তা ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশের চেতনার সাথে বেইমানি হবে।

এ বিষয়ে পাবনা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিবর্তে যদি পুরোনো সিন্ডিকেটকেই ফিরিয়ে আনা হয়, তবে বিচার বিভাগ আরও কলুষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।