আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রস্তুতি গুছিয়ে আনছে বিএনপি। সম্প্রতি দলটির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালায় আমন্ত্রিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সেখানে ডাক পাওয়া নেতারাই মূলত চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। বিপরীতে এর আগে ঘোষিত তালিকা থেকে যারা এই কর্মশালায় আমন্ত্রণ পাননি, তাদের আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে চমকপ্রদ রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
নির্বাচনি এই কর্মশালার প্রথম দফায় ২৩৬ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৬ জনসহ মোট ২৭২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ঝালকাঠি-২ আসনের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কর্মশালায় ডাকা হয়নি। একইভাবে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আগে ঘোষিত কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আসলাম চৌধুরীকে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং যশোর-৬ আসনের কাজী রওনকুল ইসলামকেও এই প্রক্রিয়ায় রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে দলের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জল্পনা ছিল তারও অবসান ঘটেছে। জেলার চারটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আগে থেকেই তালিকায় ছিলেন। নতুন করে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্মীপুরের কোনো আসনই মিত্র দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই কর্মশালায় যুক্ত হয়ে প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড এবং কৃষকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বিষয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রতিটি আসনে একজন ইলেকশন এজেন্ট, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দুজন দক্ষ ব্যক্তি এবং একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের নাম জমা দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্রচারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। ভুল তথ্য প্রতিরোধ এবং ভোটারদের কাছে দলের পরিকল্পনা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশাল কর্মশালার আয়োজন করা হয়। মিত্রদের জন্য রাখা অবশিষ্ট আসনগুলোর বিষয়েও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
মতামত