নয় বছর বয়সী শিশু মো. আব্দুল্লাহ। যে বয়সে শিশুরা খেলাধুলা আর পাঠ্যবইয়ের প্রাথমিক পাঠ নিতে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই আব্দুল্লাহ গড়েছে এক অনন্য কীর্তি। মাত্র সাড়ে ৫ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে সে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কোতালেরবাগ গ্রামের পোশাক রপ্তানি ব্যবসার সাথে জড়িত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ। ২০১৬ সালের ৯ মে জন্ম নেওয়া এই মেধাবী শিশু স্থানীয় ফয়জিয়া মুহম্মাদিয়া দারুস সালাম কওমী মাদ্রাসা থেকে এই গৌরব অর্জন করে। গত ১৪ জুন সে হিফজ (মুখস্থ) শুরু করে এবং ২০ ডিসেম্বর রাতে তার হিফজ সম্পন্ন হয়। ২৫ ডিসেম্বর এক বিশেষ মাহফিলের মাধ্যমে তাকে সম্মাননা পাগড়ি প্রদান করা হয়।
মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষা সচিব মুফতি আব্দুর রহমান বলেন, সাধারণত একজন শিক্ষার্থীর হাফেজ হতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। কিন্তু আব্দুল্লাহর নিয়মিত অধ্যবসায় ও প্রখর মেধার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের মাদ্রাসার ১৫ বছরের ইতিহাসে এটিই দ্রুততম হিফজ সম্পন্ন করার রেকর্ড। এর আগে ২০১০ সালে এক শিক্ষার্থী ৯ মাসে হাফেজ হয়েছিল। আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল মজিদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ছেলের এই অর্জনে আমি গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই চেয়েছিলাম সে আল্লাহর পথে চলুক। এত অল্প সময়ে সে হাফেজ হবে, তা ভাবিনি। এটি আল্লাহর বিশেষ কৃপা।
নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শিশু আব্দুল্লাহ বলে, প্রথমে ভেবেছিলাম অনেক কঠিন হবে, কিন্তু শিক্ষকের সহযোগিতা আর আল্লাহর রহমতে কাজটা সহজ হয়ে গেছে। হাফেজ হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।
জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক সোহাইল ইসলাম ইফতিসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আব্দুল্লাহর এই সাফল্যকে অলৌকিক ও অনুকরণীয় হিসেবে অভিহিত করে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
নির্বাচনী মাঠের এই সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
মতামত