সারাদেশ

প্রো-একটিভ হাসপাতালের সিসিইউতে অবাধে ঢুকছেন ওষুধ প্রতিনিধিরা: সংক্রমণের ঝুঁকিতে রোগীরা

প্রিন্ট
প্রো-একটিভ হাসপাতালের সিসিইউতে অবাধে ঢুকছেন ওষুধ প্রতিনিধিরা: সংক্রমণের ঝুঁকিতে রোগীরা

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১১:১৮

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিসিইউ (সিসিইউ) ইউনিটে মারাত্মক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে বিশেষায়িত এই ইউনিটে ড্রেসকোড ছাড়াই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ যাতায়াত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী স্বজনরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিসিইউতে প্রবেশের ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের জন্য কঠোর নিয়ম থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাধারণ পোশাকেই ভেতরে প্রবেশ করছেন। সম্প্রতি এক রোগীর স্বজন এই অনিয়মের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

সোনারগাঁও থেকে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, গত বুধবার তার এক আত্মীয়কে গুরুতর অবস্থায় সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ গাউন পরে ভেতরে ঢোকার অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি দেখেন, কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি কোনো প্রকার নিরাপত্তা পোশাক বা স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই দলে দলে সিসিইউতে ঢুকছেন। এতে স্পর্শকাতর এই ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বজনরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়েই ওষুধ প্রতিনিধিরা এই সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত হচ্ছে।

এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলেও সিইওর মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা সিসিইউর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।