নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিআইজির ভাতিজা পরিচয়ে এক সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম। তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দীর্ঘ দিন ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে ভোলাব ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া নিজেকে ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করেন। এসময় রাশেদুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেন তিনি। বর্তমানে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউসারের বাবা আব্দুর রশিদ ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে কাউসার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ইউপি সদস্য হন। অবৈধ ইটভাটা ও কৃষকের জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটসহ একাধিক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কাউসার আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা। তারা পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া বলেন, ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে কথা বললেও আমি কোনো গুমের হুমকি দেইনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত