সারাদেশ

বাসরঘরে মুখ ধোয়ার পর অচেনা কনে: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার মামলায় বর কারাগারে

প্রিন্ট
বাসরঘরে মুখ ধোয়ার পর অচেনা কনে: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার মামলায় বর কারাগারে

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২:২৫

বাসরঘরে মুখ ধোয়ার পর কনে বদলে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। যে মেয়েকে দেখে বিয়ে করেছিলেন, বাসর রাতে মেকআপ ধোয়ার পর তাকে আর চিনতে পারছেন না বর এমন অভিযোগ শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আদালত ও জেলহাজত পর্যন্ত।

গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলার ভাণ্ডারা এলাকার জিয়ারুল হকের মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। বরের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রানীশংকৈল এলাকায় যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, বিয়ের রাতে মেকআপের আড়ালে পাঠানো হয়েছে অন্য কাউকে। বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর আসল চেহারা সামনে আসতেই পরিবারে শুরু হয় হট্টগোল। প্রতারণার অভিযোগ তুলে পরদিন ২ আগস্ট কনেকে বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটককে আসামি করে প্রতারণার মামলা করেন।

গত ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবির জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের মামা বাদল মেয়েপক্ষ ও ঘটক পরিকল্পিতভাবে আমাদের ঠকিয়েছে। যাকে দেখিয়ে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল, বাসর রাতে তাকে পাওয়া যায়নি।

কনের বাবা জিয়ারুল হক যৌতুকের টাকা না পেয়ে তারা এখন মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছে। বিয়ের রাতে ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে কনে বদল করা কীভাবে সম্ভব?

আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আমরা আশা করছি আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

বাসরঘর থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদ এখন গোটা জেলায় মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।