সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল থেকে এদিন মোট ৪৪ মেট্রিক টন চিনি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নামে ছিল ১৫ মেট্রিক টন। দুপুর ১টার দিকে মিলের গুদাম থেকে চিনি নিয়ে তিনটি গাড়ি বের হয়। একটি ট্রাক রংপুরের উদ্দেশে রওনা দিলেও বাকি দুটি পাওয়ার টিলার রোড বাজার এলাকার মেসার্স টি এস ট্রেডারস নামক দোকানে গিয়ে থামে।
রেশনের চিনি খোলা বাজারে নামানোর দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা দোকান মালিকের কাছে বরাদ্দের কাগজ (ডি-ও) দেখতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মেস ম্যানেজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য।
চিনি বিক্রির কথা স্বীকার করে মেস ম্যানেজার এসআই মমিনুল ইসলাম দাবি করেন, মেসে অবস্থানরত প্রায় ৩০০ সদস্যের জন্য মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কেনার অর্থ জোগাড় করতে এই চিনি বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে দাম বেশি পাওয়া যায়, সেখানেই বিক্রি করা স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, মেসার্স টি এস ট্রেডারসের মালিক ও সুগার মিলের ক্যাশিয়ার মো. শামীম রহমান বলেন, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য বাহিনীও তাদের রেশন বিক্রি করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আমি এই চিনি কিনেছি। আমি না কিনলে তারা অন্য দোকানে বিক্রি করত।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র সিংহ জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৫ মেট্রিক টন চিনি নিয়ে গেছে। তবে মিলের বাইরে তারা এই চিনি কোথায় কী করবে, তা দেখার দায়িত্ব মিল কর্তৃপক্ষের নয়।
রেশনের চিনি খোলা বাজারে বিক্রির সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রেশনের পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ভর্তুকির পণ্য এভাবে কালোবাজারে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত