এমন ঘটনায় দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ঘটনার ১৫দিনেও মামলার কোন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান কারখানা কর্তৃপক্ষ।
রবিবার সকালে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় কারখানার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ প্রতিবাদ ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ “জনশক্তি রপ্তানি এজেন্সি ও বিএলও ওভারসীজ লিমিটেডের মালিক মোনোয়ার হোসেন অপু।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রূপগঞ্জের দাউদপুরে তার মালিকানাধীন “বিএলও ওয়েআর নেইল” নামক সীসা থেকে জিআই তার তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। গেল ১৭ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১টার দিকে সন্ত্রাসীরা এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এসময় হামলা চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসী হামলা করে কারখানার ম্যানেজার-ফোরম্যানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বেলায়েত আকন্দ, সজল, কাজল সহ ৯জনকে নামীয় ও ১৫-২০জনকে অঙ্গাত আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। কিন্তু ওই ঘটনার ১৫ দিনেও এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এসময় তিনি আসামিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
কারখানার কাগজপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, একটি কারখানা চালু করতে যে সব কাগজপত্রের প্রয়োজন তার সবগুলো কাগজই তার আছে। তাছাড়া তার কারখানা চলে কৃষিব্যাংকের ঋণের মূলধন দিয়ে।
যদি কারখানার কাগজপত্রের কোন ঘাটতি থাকত, তাহলেতো ব্যাংক তাকে ঋণই দিতো না। সুতরাং কারখানা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
কারখানাটির ম্যানেজার অলিউল্লাহ জানান, তিনি গত ১ মাস যাবৎ এ কারখানাটিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে আসছেন। কিছুদিন ধরে স্থানীয় চাঁদাবাজরা এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা শর্তে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
আর চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটিতে ব্যপক ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, পেটের দায়ে জীবণের ভয় নিয়েও কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে। কারখানার সামনে পুলিশ পাহারায় থাকলেও কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বা কারখানায় আসা যাওয়ার সময় ভয়ে থাকতে হয় কখন কি হয়ে যায়।
আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রত সময়ের মধ্যে যেনো প্রকৃত আসামিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কারখানাটি পুলিশ পাহারায় চালু রয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্প পুলিশ। তদন্তের পর প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের মৌখিক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত আবেদন করেনি।
মতামত