প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে বিসিকে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। অনুষ্ঠান চলাকালে আব্দুল্লাহ আল আমিন বিতর্কিত ব্যবসায়ী নেতা হাতেমের সাথে মঞ্চ ভাগ করে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
বক্তব্য প্রদানকালে সংসদ সদস্য গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদ হাতেমের বিতর্কিত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় শেখ হাসিনার ডাকা ব্যবসায়ী সম্মেলনে অংশ নিয়ে হাতেম আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে দুর্বৃত্ত বলেছিলেন।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদ হাতেম তার অনুসারীদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এরপরই হাতেমের নির্দেশে তার লোকজন ইফতার কক্ষের প্রবেশপথ আটকে দেয় এবং আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নারায়ণগঞ্জের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরেই মোহাম্মদ হাতেমকে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নারায়ণগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছেন। আজকের এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন, অলিগার্কদের দাপট এখনো পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ার কারণেই একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অবরুদ্ধ করার ধৃষ্টতা দেখানো সম্ভব হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্য তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। উপস্থিত ছাত্র-জনতা আল আমিনের সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছে।
মতামত