অভিযোগ উঠেছে, লাঙ্গলবন্দ স্নান আয়োজনের সাথে যুক্ত কিছু নেতা ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ ও গণহত্যা মামলার আসামিদের সাথে আঁতাত করছেন। গত বছরের ১৫ মার্চ গঠিত মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ অষ্টমী স্নান উৎসব উদযাপন ফ্রন্ট-এর সদস্য সচিব জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শংকর সাহার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শংকর সাহা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপিপন্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এবং তার সহযোগীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অভিযুক্ত ও গণহত্যা মামলার আসামি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর দলের কোনো কর্মসূচিতে ছিলেন না, তারা এখন নব্য বিএনপি সেজে স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। তারা শহীদ জিয়াউর রহমান বা তারেক রহমানের ছবি দিয়ে পোস্টার না ছাপিয়ে গণহত্যা মামলার আসামির ছবি দিয়ে পুণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, যা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।
এই অস্থিরতা ও বিভক্তি দূর করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব প্রবীর কুমার সাহা, সরোজ কুমার সাহা ও পরিতোষ কান্তি সাহার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ভক্তরা। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না আসায় আসন্ন স্নান উৎসবের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মতামত