স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৫ এপ্রিল ডিবি পুলিশের অভিযানে ৭৯৬ বোতল ফেনসিডিলসহ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জনি। তবে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি দমে যাননি। বর্তমানে সহযোগী সোহেলকে নিয়ে তিনি মাদকের হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোনামিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, জনি জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে মূলত ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা পরিচালনা করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনির পিতা আসাদুজ্জামান ওরফে জামান স্বর্ণকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক সাংসদ শামীম ওসানের সহযোগী হয়ে কাজ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। যারফলে শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে নানা বিতর্কীত কাজ করেও তিনি সোনামিয়া বাজারে বহাল তবিয়তে। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় সুদের ব্যবসা এবং চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই চোরাই স্বর্ণসহ জামান জুয়েলার্সের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান মূল মালিক জামান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনামিয়া বাজারের একাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, জামান স্বর্ণকার ও তার ছেলে জনির কারণে বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, বরং বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার সময় ভেজাল স্বর্ণ দেওয়ার মতো প্রতারণাও করে থাকেন। বর্তমানে তাদের মাদক সিন্ডিকেটের কারণে আশপাশের এলাকা থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিহ্নিত এই মাদক কারবারি ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সোনামিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। যুবসমাজকে রক্ষা ও বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মতামত