নারায়ণগঞ্জের গোগনগর ইউনিয়নের সুকুমপট্টি এলাকায় একতলার একটি আধাপাকা ঘরে ছিল বিল্লালের বসবাস। অভাবের কারণে ঘরের ছাদ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারটির, দীর্ঘ দিন ধরে পলিথিন টাঙিয়ে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করেই কাটাতে হয়েছে তাদের। বিল্লালের স্ত্রী সোনিয়া জানান, মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যখন বিল্লাল শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন এ টি এম কামাল ছাড়া আর কোনো নেতা তাঁদের খোঁজ নেননি। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে পরপারে পাড়ি জমান এই লড়াকু কর্মী।
সহযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের এই করুণ দশা ভুলে যাননি প্রবাসে থাকা এ টি এম কামাল। গত সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে এসে জীর্ণ ঘরটি দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি প্রবাস থেকে তিনি বিল্লালের ঘর নির্মাণের প্রাথমিক খরচ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিল্লালের স্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ঘর সংস্কারে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রবাস থেকে মুঠোফোনে এ টি এম কামাল বলেন, বিল্লাল ছিল রাজপথের অকুতোভয় সৈনিক। শত শত মাইল পদযাত্রাতেও সে আমার সঙ্গী ছিল। আজ সে নেই, তার স্ত্রী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এটি মেনে নেওয়া কঠিন। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সবার উচিত দুঃসময়ের কর্মীদের পরিবারের খোঁজ রাখা।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত মমত্ববোধের এই বিরল দৃষ্টান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সোনিয়া বিল্লাল এখন তাঁর অসমাপ্ত ঘরের ছাদে ঢালাই দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিল্লাল হোসেন হয়তো পরপারে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন এই ভেবে যে, তাঁর আজীবনের স্বপ্নের ঘরে অবশেষে একটি স্থায়ী ছাদ হতে যাচ্ছে।
মতামত