আর্তনাদ থামেনি স্বজনদের নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের এক যুগ স্মরণে আজ কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজনরা। মামলার বাদী ও নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর আমরা শুধু অপেক্ষায় আছি। উচ্চ আদালতে ফাঁসির রায় বহাল থাকলেও তা কার্যকর কেন হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আইনমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার দ্রুত রায় কার্যকরের বিশেষপদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ফিরে দেখা সেই নারকীয় ঘটনা ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে ফিল্মি কায়দায় সাতজনকে অপহরণ করে তৎকালীন র্যাব-১১-এর কতিপয় সদস্য। এর তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পেট চেরা ও ইটভর্তি বস্তা বাঁধা অবস্থায় তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হলে গ্রেপ্তার করা হয় মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নিম্ন আদালত নূর হোসেন ও সাবেক তিন র্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের সাজা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
শেষ কথা বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার এই মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি। স্বজনদের একটাই দাবি, আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত যেন খুনিদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়। তবেই শান্তি পাবে শীতলক্ষা ও মেঘনার জলে ভেসে যাওয়া সাতটি বিদেহী আত্মা।
মতামত