সারাদেশ

বটিয়াঘাটায় খাল গিলে খাচ্ছে দখলদাররা: অস্তিত্ব সংকটে ৮২ জলাশয় বিপাকে কৃষক

প্রিন্ট
বটিয়াঘাটায় খাল গিলে খাচ্ছে দখলদাররা: অস্তিত্ব সংকটে ৮২ জলাশয় বিপাকে কৃষক

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২৬, রাত ১১:১৮

খুলনার বটিয়াঘাটায় অবৈধ দখল ও দূষণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপজেলার ৮২টিরও বেশি খাল ও জলাশয়। খাল ভরাট করে অবাধে নির্মাণ করা হচ্ছে দোকানপাট, পাকা ভবন ও হাউজিং প্লট। অন্যদিকে, সংস্কারের অভাবে সরকারি খাস খালগুলো কচুরিপানায় ভরে গিয়ে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বটিয়াঘাটা সদর হেতালবুনিয়া খালের দুই পাশ ভরাট করে অবৈধভাবে শত শত দোকান ও পাকা ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার ৩২টি রেকর্ডীয় খাল ও জলাশয় ভরাট করে অবৈধ প্লট ব্যবসার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া জলমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মৌজায় ১৮টি সরকারি খাস খাল দখল করে নিয়েছেন কতিপয় প্লট ব্যবসায়ী। সদর এলাকার হাটবাটি হাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে স্থানীয় খাল। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব দখলযজ্ঞ চললেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কৃষ্ণনগরের খালগুলো উদ্ধারে সচেতন মহল হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলেও প্রশাসনের অসহযোগিতায় তা দখলমুক্ত হচ্ছে না।

খালের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হওয়ায় এবং যত্রতত্র বাঁধ ও জাল দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় বোরো, তরমুজসহ রবিশস্য আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে।

জাতীয় কৃষক সমিতি খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। সংরক্ষণ আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় পরিবেশ, চাষাবাদ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোপাল কুমার দত্ত জানান, কচুরিপানার কারণে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি কোনো জনপ্রতিনিধি তাদের জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, ইতোমধ্যে কিছু খাল দখলমুক্ত করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, সকল সরকারি রেকর্ডীয় খাল দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। ইতোমধ্যে খাল খননের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই খনন কাজ শুরু হবে।