২০১২ সালের ওই দিন বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ডিআইটি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন এটিএম কামাল। এসময় তৎকালীন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ অতর্কিতভাবে তার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। পেটাতে পেটাতে একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ মিছিলের ব্যানারে পেঁচিয়ে কামালের পায়ের ওপর পড়ে যান এবং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দফায় দফায় নির্মমভাবে প্রহার করেন।
টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে এই বর্বরোচিত নির্যাতনের দৃশ্য দেখে সেসময় দেশবাসী হতবাক হয়ে গিয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় কামাল দীর্ঘ দিন নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দারোগা নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের কাছে দম্ভভরে বলেছিলেন, যা করেছি ওপরের নির্দেশেই করেছি। যেকোনোভাবেই হোক তাকে থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল আমার ওপর। পুলিশের এই নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে ওই দিনই নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং পরদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল জেলা ও নগর বিএনপি।
১৪ বছর পর সেদিনের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে এটিএম কামাল বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই পুলিশ সেদিন আমার ওপর হামলা করেছিল। মাথায় একের পর এক আঘাতের পরও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। তবে মাথা ও কানে আঘাতজনিত কারণে চোখসহ কিছু শারীরিক ক্ষতি আমার সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে রইল।
শত নির্যাতন ও হামলা-মামলার পরও রাজনীতিতে অবিচল থাকার কথা জানিয়ে এই নেতা বলেন, মৃত্যুকে আমি কখনও ভয় পাইনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিজের জীবন বাজি রেখেছি। জেল-জুলুম সহ্য করেও রাজপথ ছাড়িনি এবং ছাড়ব না।
মতামত