সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টায় হাটটি পরিদর্শন শেষে এখানকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা পুরো হাট ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন গরুর ব্যাপারী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগর অতিথিদের হাটের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা ঘুরিয়ে দেখান।
অন্যান্য পশুর হাটের তুলনায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নাভানা সিটি পশুর হাটে এবার আনা হয়েছে ভিন্নতা। হাটে আসা ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্রয়ের ব্যবস্থা করেছে হাট কর্তৃপক্ষ। এই হাট থেকে পশু ক্রয় করলেই ক্রেতারা পাচ্ছেন এই সুযোগ। র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার হিসেবে থাকছে, প্রথম পুরস্কার একটি আইফোন ৭ প্রো ম্যাক্স। দ্বিতীয় পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল। তৃতীয় পুরস্কার একটি ডাবল-ডোর ফ্রিজ। অন্যান্য পুরস্কার ওয়াশিং মেশিন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় সামগ্রী।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, ঈদের সময় ক্রেতারা গরু কিনে নিয়ে যান, পরে তাদের সঙ্গে আর সাক্ষাতের সুযোগ হয় না। ক্রেতাদের সঙ্গে পুনরায় যেন একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়, সেজন্যই হাটের পক্ষ থেকে এই সামান্য উপহারের ব্যবস্থা করেছি আমরা। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আমরা এর চেয়েও বড় উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা, জাল নোট শনাক্তকরণ, নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত অর্থ আদায় রোধ এবং সড়কে পশু বিক্রি করে যানজট সৃষ্টির বিষয়ে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো হাটে নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত টাকা আদায়, জাল নোটের লেনদেন বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সড়কে পশু রেখে যানজট সৃষ্টি করলে হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন, ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে হাটে আসতে পারেন এবং কোরবানির পশু কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।
হাট পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরা।
মতামত