গত ৩০ মে ধামগড় ইউনিয়নে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শেখ রাসেল ক্রীড়া একাডেমির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য হাবিবুর রহমান, যিনি একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা। একজন আওয়ামী লীগ নেতার সভাপতিত্বে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় খোদ দলটির ভেতরেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এই কর্মসূচির স্থান ও সময় নির্ধারণ করেন। কর্মসূচির মূল ব্যানারে স্থানীয় ও উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম রাখা হয়নি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ মূল ধারার নেতারা অনুষ্ঠানটি বর্জন করলেও, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ওই বিতর্কিত অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দেন।
এই আয়োজনের সাথে ইউনিয়ন বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা।
ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার সভাপতিত্বে বিএনপির অফিশিয়াল প্রোগ্রাম কীভাবে হয়, তা আমাদের জানা নেই। মূলত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা একক সিদ্ধান্তে এই বিতর্কিত আয়োজনটি করেছেন।
ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার বলেন, আমরা মূল কমিটিকে সাথে নিয়ে পৃথকভাবে দোয়ার আয়োজন করেছি। এই রহস্যজনক আয়োজনের নেপথ্যে থাকা আমির হামজাই এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কর্মীদের মতে, দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎ বার্ষিকীর মতো একটি আবেগঘন কর্মসূচিকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে। ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতা-কর্মীরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মতামত