বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সাইনবোর্ড ট্রেড সেন্টার অফিসে ১১ জন জমির মালিকের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে তার অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সাইনবোর্ড এলাকার খোর্দঘোষপাড়া মৌজায় তারা ১১ জন মিলে মোট ৮২.১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। এর মধ্যে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ জমি রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার পূর্বে সরকারি জায়গা লিজ নিয়ে ওই এলাকায় চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন চালাতেন। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সরকার সেটি উচ্ছেদ করলে, মানবিক কারণে তার মেশিনারিজ সাময়িকভাবে ভুক্তভোগীদের জমিতে রাখার অনুরোধ জানান। প্রতিবেশীর বিপদে জমির মালিকরা এতে সম্মতি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে মেশিনারিজ সরিয়ে নিতে বললে তিনি তালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করে বসেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি জবরদখল করতে সাত্তার সন্ত্রাসী আচরণ শুরু করেন এবং তার মেয়ের জামাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলে দাবি করে ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে জমির মালিকদের শায়েনস্তা করার হুমকি দেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে জমির মালিকরা তাদের জায়গায় কাজ করতে গেলে সাত্তার ও তার সশস্ত্র দলবল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় এবং ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। হামলাকারীরা সীমানার টিনশেড ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মহলের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ভূমিদস্যু সাত্তারের হিংস্র থাবা থেকে নিজেদের সম্পত্তি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মো. মেহেদী হাসান, শাহিন মিয়া, শাহনাজ পারভীন, আবু সায়েদ শিপনসহ ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বিতর্কিত ওই জমির বৈধ দলিল এবং মিউটেশন তার নিজের নামেই রয়েছে।
আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার বৈধ সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়াকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। আর এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নাসিক ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবালকে ব্যবহার করে আমাকে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে।
মতামত