এদিকে, এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহার দুই পা বিছানায় ঠেকানো ছিল এবং বাঁ হাত দিয়ে গলার ওড়না ধরা ছিল। প্রতিবেশীরা আসার আগেই স্বামী দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকায় ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহার মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় স্বামী শাশুড়িসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ছালমা বেগম ও ননদ শিল্পী বেগমের প্ররোচনায় নিহার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী সুমন। সম্প্রতি সুমনের বন্ধু তুষার আহম্মেদ ভূঁইয়ার সঙ্গে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে সুমন এবং মাদকের টাকার জন্য নিহাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বিবাদীরা নিহাকে গালিগালাজ করে বলেন, তুই গলায় ফাঁস নিয়া আত্মহত্যা কর গিয়া। এই গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরেই নিহা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, স্বামী সুমন মোল্লা (৩২), শাশুড়ি ছালমা বেগম (৫০), ননদ শিল্পী বেগম (৩৮) এবং সুমনের বন্ধু তুষার আহম্মেদ ভূঁইয়া (৩৪)।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছিল, যা আমরা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত