সারাদেশ

সাহসিকতার অনন্য নজির: প্রশংসায় ভাসছেন ফায়ার স্টেশনের লিডার হারুন ও তার টিম

প্রিন্ট
সাহসিকতার অনন্য নজির: প্রশংসায় ভাসছেন ফায়ার স্টেশনের লিডার হারুন ও তার টিম

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০২৬, রাত ৯:৫৬

ঝড়-বৃষ্টি কিংবা মাঝরাতের উত্তাল নদী যেকোনো জলমগ্ন বিপদে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে এক আস্থার নাম নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন। আর এই স্টেশনের লিডার মোঃ হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একঝাঁক সাহসী ডুবুরি নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক উদ্ধার অভিযান সফল করে চলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় পানিতে ডুবে যাওয়া একাধিক মরদেহ উদ্ধার এবং নদী থেকে প্রাইভেটকার টেনে তোলার মতো চাঞ্চল্যকর সব অভিযানে অংশ নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন লিডার হারুন এবং তার দলের দক্ষ ডুবুরি মো: আশিক মাহমুদ, মো: সাদিক ও মো: দেলোয়ার হোসাইন।

সবশেষ গত ১৩ জুন বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের নাভানা সিটি ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন দুলাভাই রাশেদুজ্জামান (২২), শ্যালক মোঃ গালিব (১৮) ও শ্যালিকা মোছাঃ সুরাইয়া (১২)। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় লিডার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বাধীন ডুবুরি দল। তাদের যৌথ ও ঝটিকা অভিযানে তিনজনেরই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগেও এই টিমের সদস্যরা দেখিয়েছেন অসীম ধৈর্য ও দক্ষতার প্রমাণ। গত ১৬ এপ্রিল রূপসীর কাজী পাড়া সোনালী ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অসাবধানতাবশত জাহাজ থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ইসমাইল গাজী (২৫) নামের এক শ্রমিক। বরগুনার বাসিন্দা এই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয় এই দল। একই দিনে নবীগঞ্জ ফেরিঘাটে ব্রেকফেল করে যাত্রীসহ একটি প্রাইভেটকার নদীতে পড়ে গেলে চালক অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও গাড়িটি উদ্ধার করতে বুক পানিতে নামেন ফায়ার ফাইটাররা। সফলভাবে গাড়িটি টেনে তোলে হারুন অর রশিদের টিম।

৩১ মার্চ বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে যাওয়া নেয়ামত উল্লাহ (১৫) নামের এক ১৮ পারার কোরআনে হাফেজকে নদী থেকে উদ্ধার করেন ডুবুরি আশিক মাহমুদ।

১৫ মার্চ বন্দরের লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদীতে ডুবে যাওয়া আরাফাত (১০) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করে এই টিম। ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে যাওয়া দুই সহোদর ভাই আশিক (১২) ও আরিয়ানকে (৬) দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় উদ্ধার করেন ডুবুরি সাদিক ও দেলোয়ার হোসেন।

পরপর ঘটে যাওয়া এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোঃ হারুন অর রশিদ অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। আনন্দের মুহূর্তগুলো যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য সন্তানদের প্রতি মুহূর্তে নজর রাখুন। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা আমাদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের সেবায় সর্বদা তৎপর আছি এবং থাকব।

কর্তব্যের প্রতি সততা, দ্রুত সাড়া দেওয়ার মানসিকতা এবং একের পর এক সফল উদ্ধার অভিযানের কারণে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের এই টিমটি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে এক অনন্য আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।