সারাদেশ

এক সপ্তাহে সাত চুরি, আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের রোগী-স্বজন

প্রিন্ট
এক সপ্তাহে সাত চুরি, আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের রোগী-স্বজন

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০২৬, সন্ধ্যা ৮:১৯

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, কেবিন, লিফট ও বারান্দা থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের সুযোগে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, গত ২৮ জুন অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে যান তিনি। কিছু সময়ের জন্য কেবিনের বাইরে গেলে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি কেবিনে প্রবেশ করে তার মানিব্যাগসহ নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

তার অভিযোগ, অভিযোগ জানানোর পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। একই দিন আরও দুজন চুরির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াতও বেড়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুরির শিকার রোগীর স্বজন ফয়সাল জানান, মেডিসিন বিভাগে যাওয়ার সময় লিফটে ওঠেন তিনি। নিচে নেমে দেখেন তার মানিব্যাগ নেই।

আরেক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, রোগীকে দেখতে এসে তার হাতে থাকা ব্যাগ এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে হাসপাতালে চলাফেরা করতে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন স্থানে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রয়েছে। এছাড়া আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

হাসপাতালে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।