শনিবার সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, প্রধান প্রবেশদ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।
তিনি বলেন, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো চালুর লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যার কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, হাসপাতালের আসবাবপত্র সংগ্রহের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নমুনা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে এক মাসের মধ্যেই হাসপাতালগুলোর উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর ১০০ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। প্রায় ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় ভবনটি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে শিশু হাসপাতাল হিসেবে এর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনতলা হাসপাতাল ভবনে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, চিকিৎসকদের চেম্বার, ল্যাব, অপারেশন থিয়েটার, বার্ন ইউনিট, ওয়ার্ড ও কেবিনসহ আধুনিক চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য পৃথক আবাসন, গ্যারেজ এবং বিদ্যুৎ সাবস্টেশনও নির্মাণ করা হয়েছে।
হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের শিশুদের জটিল অস্ত্রোপচার, বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং বিভিন্ন শিশুরোগের উন্নত সেবা নিজ বিভাগেই পাওয়া সম্ভব হবে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দূরবর্তী এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
মতামত