নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদ সম্প্রতি ‘আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন’ নামে একটি মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সামাজিক সংগঠন তৈরি করেন। শনিবার রাতে ওই সংগঠনের ৩০-৪০ জন সদস্য জিসানের বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে অচেতন অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে ফেলে রেখে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
এদিকে, জিসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়, এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও মসজিদের ইমাম কাওসার আহমেদ বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার রাতে এক যুবকের মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করলে ভুক্তভোগীর নালিশের ভিত্তিতে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সংশোধনের জন্যই এর আগে বোঝানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মতামত