রমজান কেবল শীর্ষ মাদক কারবারিই নয়, সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলারও অন্যতম আসামি। দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই অপরাধীর গ্রেপ্তারের খবরে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাজুড়ে জনমনে নেমে এসেছে চরম স্বস্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকাটি যেন রমজানের এক অঘোষিত মাদক সাম্রাজ্য। বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে সে রাজনৈতিক প্রভাববলয় কাজে লাগিয়ে সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী পানি আক্তারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অপরাধ জগতে বিচরণ করছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন অনেক শীর্ষ ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যায়, ঠিক তখনই রমজান নতুন করে এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করে এবং এককভাবে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়।
তার এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ভয়ংকর মাদকের বড় চালান এনে তা খুচরা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। তার নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি গ্রুপ নিয়মিতভাবে এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল। ফলে তরুণ সমাজ দ্রুত মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় ভয়ংকর আকার ধারণ করে।
রমজানের এই বিশাল মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তার পরিবারের সদস্যরাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
রমজানের ভাই ফয়সাল নিজেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তার আয়ের মূল উৎসও এই অবৈধ মাদক কারবার।
দীর্ঘদিন ধরে রমজান আইনের আওতার বাইরে থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সোর্সদের সাথে আর্থিক লেনদেনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে তার মা আয়েশা বেগম গ্রেপ্তার হলেও, রহস্যজনকভাবে রমজান আগে থেকেই খবর পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এতে প্রশাসনের ভেতরে তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
তবে ছোটখাটো বিক্রেতাদের পাশাপাশি এবার মূল হোতা রমজান পুলিশের জালে ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা লাবনী ও সোনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালানো কখনোই সম্ভব নয়।
রমজান গ্রেপ্তার হলেও আদমজী বিহারী ক্যাম্পসহ পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা এখনো মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং এলাকার শান্তি ফেরাতে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করেন, এখনই এই মাদক নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম হুমকির মুখে পড়বে। রমজানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রশাসন যে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নেটওয়ার্ক ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
মতামত