গ্রেপ্তারকৃত রমজান সুমিলপাড়া বিহারী ক্যাম্প এলাকার মোস্তাকিম ওরফে গফুর ভান্ডারীর ছেলে। দীর্ঘদিন পর এই অপরাধী পুলিশের জালে ধরা পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি নেমে এলেও, তার নেপথ্যের অদৃশ্য শক্তি ও সাম্প্রতিক দল বদলের রাজনীতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রমজান শীর্ষ সন্ত্রাসী পানি আক্তার ও সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী হিসেবে এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে তার অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলে এই চতুর অপরাধী। সে নিজেকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কর্মী দাবি করে আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকায় একক মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। অভিযোগ উঠেছে, গ্রেপ্তারের পরও বিএনপির কিছু অসাধু নেতাকর্মী রমজানকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় জোর সুপারিশ ও তদবির চালিায়েছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর দাবি, রমজানের এই বিশাল মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তার পরিবারের সদস্যরাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার ভাই ফয়সাল নিজেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী দাবি করলেও মূলত তার আয়ের মূল উৎসও এই অবৈধ মাদক কারবার।
এর আগে যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে রমজানের মা আয়েশা বেগম গ্রেপ্তার হলেও, রহস্যজনকভাবে রমজান আগে থেকেই খবর পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সে সময় প্রশাসনের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা লাবনী ও সোনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় আর প্রশাসনের আর্থিক সুবিধা ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালানো কখনোই সম্ভব নয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদমতলী ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ রমজানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন করে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আসামির বিরুদ্ধে পূর্বেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদক, হত্যা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ১৮টি মামলার আসামি হওয়ার পরও কীভাবে রমজান এলাকায় দাপটের সাথে অপরাধ চালাতো? প্রশাসন কি সত্যিই কোনো অদৃশ্য শক্তির কাছে দুর্বল নাকি আর্থিক সুবিধাভোগী? এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে রমজানের পুরো মাদক নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মতামত