সারাদেশ

ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচারে দৃষ্টিশক্তি হারানো স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

প্রিন্ট
ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচারে দৃষ্টিশক্তি হারানো স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৩

শেরপুর সদর উপজেলার বাগরাকসা এলাকায় ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া এক নারীকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শামছুননাহারের সঙ্গে মো. শহিদুল্লাহর বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে তাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর শামছুননাহার ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে শামছুননাহারের ওপর নির্যাতন চালাতেন তার স্বামী। একই সঙ্গে পরিবারের কাছে একাধিকবার অর্থ দাবি করা হয় এবং বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে থেকে অভিযুক্ত দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। গত ১১ জুন সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় ওই টাকা দাবি করা হলে শামছুননাহার এতে আপত্তি জানান। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন।

পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে শহরের থানা মোড় এলাকা থেকে মো. শহিদুল্লাহকে গ্রেফতার করে শেরপুর সদর থানা পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমড়ী মুদীপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।