প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
1707
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম
চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান হিজাব ও পবিত্র পর্দা নিয়ে আপত্তিকর কটাক্ষ ও অশালীন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে নোয়াখালীতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার উদ্যোগে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মাইজদী পৌর বাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উগ্র ধর্মীয় অবমাননাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে মাইজদী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। পরে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি সমাপ্ত হয়।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ বক্তারা পবিত্র সংসদের মতো একটি উচ্চমর্যাদাশীল স্থানে দাঁড়িয়ে ইসলামের একটি মৌলিক বিধানকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ ও অসংযত মন্তব্য করার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে তাঁর এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে মহান সংসদ ও পুরো দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, নোয়াখালী শহর শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব এবং নোয়াখালী জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় ও শহর কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ শতকরা ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশ। এই দেশের পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে যদি হিজাব ও পর্দার মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় বিধানকে নিয়ে উপহাস ও কটাক্ষ করা হয়, তবে এ দেশের তৌহিদী জনতা ও ছাত্রসমাজ কখনোই চুপ করে ঘরে বসে থাকবে না। আমরা স্পিকারের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ) করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, তবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে অবশ্যই তাঁর নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
সমাবেশকে কেন্দ্র করে মাইজদী শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও মিছিল ও সমাবেশটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।