জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দেশ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রত্যাশিত প্রথম পদক্ষেপ। আজকের এই ঘোষণার আগে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে বিগত তিনটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের ভোটাধিকার ব্যবস্থার ওপর আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়।
দ্বাদশ নির্বাচন (৭ জানুয়ারি ২০২৪) তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ঘোষিত এই নির্বাচন দেশ-বিদেশে ডামি নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখাতে ক্ষমতাসীন দল নিজেদের নেতাদেরই স্বতন্ত্র ও ডামি প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল।
একাদশ নির্বাচন (৩০ ডিসেম্বর ২০১৮) সিইসি কে এম নুরুল হুদার অধীনে হওয়া এই নির্বাচন রাতের ভোট হিসেবে কুখ্যাত। নির্বাচনে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরাটের নজিরবিহীন অভিযোগ ওঠে।
দশম নির্বাচন (৫ জানুয়ারি ২০১৪) এটি ছিল একতরফা ও সহিংসতাপূর্ণ। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত সহিংসতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন ক্ষমতাসীনরা।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, যার তফসিল ঘোষিত হয় ৭ জানুয়ারি। এছাড়া ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন), ২০০১ এবং ২০০৮ সালেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশ আবারও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করছে।
মতামত