অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক থাকতে না পারার নিয়ম থাকলেও নানা কূটকৌশলে ২০০৭ সাল থেকে অদ্যাবধি এই পদ দখল করে আছেন তারিকুল ইসলাম। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি অন্তত ৫-৬ বার গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে পকেট কমিটি গঠন করেছেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি অনুযায়ী হাসপাতালে আগত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গরিব রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। উল্টো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্লিনিকের চেয়েও বেশি টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া জেলা পরিষদ থেকে আইসিইউ বিভাগের জন্য প্রাপ্ত ৬০ লাখ টাকার অনুদানের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং দীর্ঘ একযুগেও আইসিইউ চালু করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার জন্য কোনো লেজার বা রেজিস্ট্রি খাতা নেই। অর্থনৈতিক দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে শুধুমাত্র সফটওয়্যারে হিসাব রাখা হয়, যা সহজেই পরিবর্তনযোগ্য। তাছাড়া, সরকারি নিবন্ধিত অডিট ফার্মের বদলে নিজেদের বিশ্বস্ত লোক দিয়ে নামমাত্র অডিট করিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার লোপাট আড়াল করা হচ্ছে।
হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক বিএমডিসি স্বীকৃত উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াই নিজেকে হেমাটোলজি কনসালটেন্ট পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন। তিনি পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হয়েও একই প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ে বৈকালিক চেম্বার করছেন। অন্যদিকে, হাসপাতালের স্টোর ও কেনাকাটায় কোনো দরপত্র (কোটেশন) বা পাকা রসিদ রাখা হয় না। সাদা কাগজে ভুয়া হিসাব লিখে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ সম্পাদকের সিন্ডিকেট। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।
জনকল্যাণমুখী এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
মতামত