নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক চাউল ব্যবসায়ীর পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে আসলাম (৩৫), মো. হিরা (২১), আশিক (২০) ও আমেনাসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪নং ওয়ার্ডের আল্লাবন এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ আসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইতিপূর্বে আদালতে দুটি মামলা (সিআর নং- ৪১৪/২০২৫ ও ৪১৭/২০২৫) দায়ের করেন। বর্তমানে মামলা দুটি পিবিআই তদন্ত করছে। মামলা করায় বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে।
বাদীর অভিযোগ, প্রায় ৮ মাস আগে আসলাম তার কলেজপড়ুয়া ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়ামকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কাজের কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেয়। সিয়াম সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে জানালে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এর জেরে গত ৩০ নভেম্বর জিম থেকে ফেরার পথে সিয়ামকে একটি কালো রঙের হাইস গাড়িতে করে অপহরণের চেষ্টাও চালায় সন্ত্রাসীরা।
সর্বশেষ গত ১ জানুয়ারি সকালে সিয়াম বাড়ির সামনে বের হলে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সিয়ামের চিৎকারে বাবা জাকির হোসেন, বড় ভাই শরিফ ও ফুফু ফতে বেগম উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন জানান, সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে আমার পরিবার এখন গৃহবন্দী ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গাজী মাহতাব উদ্দিন জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত