আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসনটিতে এখন বহুমুখী ও হেভিওয়েট লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী দলমত নির্বিশেষে সবার আস্থার প্রতীক। তাকে ঘিরেই রিপাবলিকান পার্টির উত্থান এবং শিগগিরই কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এমপি হয়েছিলাম। এবারও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চাইনি। তাই একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় অনেক প্রভাবশালী নেতা। মোহাম্মদ আলীর পাশাপাশি এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় ইতিমধ্যে গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে এই তিন হেভিওয়েট সাবেক বিএনপি নেতার অংশগ্রহণ আসনটিকে সারা দেশের মধ্যে অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত করেছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, জনপ্রিয়তার বিচারে প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমার ধারেকাছে নেই। সাতটি ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা আমার সঙ্গে আছে। নির্বাচিত হলে আমার প্রধান কাজ হবে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমি মাঠ ছাড়ব না, শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকব। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই ত্রিমুখী ও হেভিওয়েট লড়াই এখন সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মতামত