নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তহশিলদার মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের মতো সাধারণ সেবার জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এমনকি দলিলে সামান্য ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের নামে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করে এই চক্র। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে অফিস সহকারী শিল্পী রানীকে এক সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা নিতে দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, তহশিলদার মফিজুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে অফিসের প্রধান সহকারী সেলিম, সৈকত, মহিউদ্দিন ও শিল্পী রানী এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এমনকি মফিজুলের ভাতিজা পিন্টুও এই চক্রের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
সাধারণ একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও মফিজুল ইসলাম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জালকুড়ি এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট ও আলিশান ভবন রয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলতে বলেন এবং দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এই দুর্নীতির রাজত্ব বন্ধে এবং দায়ীদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
মতামত