নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক সোহেল (৪১) কে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি।
নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন সোহেল। পরদিন সকালে সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে হাত, মুখ ও বুক স্কচটেপে পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মহসিন মিয়া সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআইয়ের হাতে আসার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সুজন মিয়া (৩৩), শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), দুলাল মিয়া (৪৫), আব্দুর রহিম (৫৫) ও আবুল কাশেম (৪০)।
পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সুজন ও হীরা টাকার অভাবে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ১৫ জানুয়ারি তারা এই ছক আঁকে। ঘটনার দিন তারা কৌশলে সোহেলকে এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে নেশাজাতীয় সিরাপ মিশিয়ে পান করায়। এরপর অচেতন অবস্থায় নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
চোরাই চক্রের যোগসাজশ ছিনতাই করা অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় একটি গ্যারেজে বিক্রি করা হয়। গ্যারেজ মালিক ও কেনাবেচায় জড়িত আরও তিনজনকে এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি দীর্ঘ দিন ধরে চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের (২৪ জানুয়ারি) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত