নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ফের ভোট গণনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেয়ালঘড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ বি এম সিরাজুল মামুন।
তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জনগণের দেয়া রায় বদলে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের রাতে শুরুতে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি এগিয়ে ছিলেন এবং কিছু টেলিভিশন চ্যানেলেও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়।
১২টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পরে ধারাবাহিকভাবে ফল প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়। রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এই দাবি করেন তিনি।
মামুন বলেন, ‘মানুষ এই রায় মানতে পারছে না। তবে আমি পরাজিত হয়ে মেনে না নেওয়ার যে সংস্কৃতি, এটায় বিশ্বাস করি না। মানুষের চাপে আমি এখানে এসেছি। আপনারা মানুষের জন্য কাজ করুন। আমি আপনাদের কাজ করব। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনেও আমরা আবেদন করেছি।
’তিনি আরো বলেন, ‘আমার কর্মীরা নিরীহ মানুষ। তাদের আপনারা হুমকি-ধমকি দেবেন না। সহিংসতা কারো জন্য ভালো হবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান এজেন্ট বিভিন্ন এলাকায় যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাকে যখন জরিমানা করা হয় সেই ম্যাজিস্ট্রেটের সাথের লোকেরাই বলছিল এটা উচিত হয়নি। সেখানে অনেক উচ্ছৃঙ্খল ছেলেপেলে ছিল। তারা আমাদের ড্রাইভারের টাকাও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।’
তার এজেন্টের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে মামুন বলেন, ‘হাফেজ কবির প্রধান এজেন্ট ছিলেন। আমি তো আমার কর্মীদের একটি টাকাও দিইনি।
মানুষের পকেটে কি কিছু টাকা থাকতে পারে না? আমার এজেন্টদের সমস্যা ছিল। কিছু এজেন্ট আমরা দিতে পারিনি। তবে টাকা দিচ্ছি এমন কোনো ছবি থাকলে তারা ছবি দেখাক। তাকে সেখানে হেনস্তা করল তারা। তার দাড়ি ছিঁড়ে ফেলে।’
জনগণের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাকে অনেকেই ভোট দিয়েছে। বহু মানুষ আমাকে ভালবেসেছে, আমি তাদের প্রতিনিধি। আপনারা মানুষকে আর কষ্ট দিবেন না। আপনারা মানুষের জন্য কাজ করুন। জনগণের প্রতি আপনারা সম্মান দেখান।
তিনি বলেন, আপনারা যদি মানুষের জন্য কাজ করেন। যদি চাঁদাবাজি, যানজট বন্ধ করতে পারেন। আমি ও এগারো দল আপনাদের সমর্থন করবে। আপনারা একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলুন। আমার ভোটাররা এটা মানতে পারছে না। একারণে আমি এখানে এসেছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, খেলাফত মজলিসের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমেদ, এনসিপির দক্ষিনাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী প্রমুখ।
মতামত