আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম আজাদ শুধু আড়াইহাজারবাসীর আস্থা ও ভালোবাসারই প্রতিফলন ঘটাননি, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন, তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার কারণে তিনি ইতোমধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, নজরুল ইসলাম আজাদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা—সব ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আড়াইহাজারবাসীর প্রত্যাশা, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে নজরুল ইসলাম আজাদ এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। ইতোমধ্যে তিনি একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল আড়াইহাজার গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তবে দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। তবুও সম্ভাব্য তালিকায় নজরুল ইসলাম আজাদের নাম ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এ আসনের মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ ভোটারের বিপরীতে ১১৯ টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টি কেন্দ্রে মোট ভোট সংগ্রহ হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোট। সর্বশেষ ভোটের ফলাফল অনুয়ায়ি এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৬৪.২৪ শতাংশ।
এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়েছেন।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৯৩৩ ভোট পান। গণ অধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া পেয়েছেন ১৪২ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পাটির মো. আবু হানিফ হৃদয় ২২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ ৫ হাজার ২৬৫ ভোট, বায়ংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির হাফিজুল ইসলাম ৩৫০ ভোট।
মতামত