পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর একাধিক হত্যা মামলার আসামি সন্ত্রাসী পানি আক্তার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে থেকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পায় যে, পানি আক্তারের সাঙ্গোপাঙ্গরা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেছে। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত এই হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়।
বিহারী ক্যাম্প এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, হৃদয় শুধু পানি আক্তারের সহযোগীই নয়, সে ছিল এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ক্যাশিয়ার এবং সকল অপকর্মের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, পানি আক্তারের সকল অবৈধ ব্যবসা ও মাদকের ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করত এই হৃদয়। এমনকি পানি আক্তারের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র হৃদয়ের জিম্মায় রয়েছে বলেও স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। ৫ই আগস্টের পর পানি আক্তার পলাতক থাকলেও হৃদয়ই নেপথ্যে থেকে মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কারবার পরিচালনা করে আসছিল।
হৃদয়কে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াসিম আকরাম জানান,
আমরা হৃদয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে তাকে থানায় নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হৃদয়কে রিমান্ডে নিয়ে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পানি আক্তারের অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডার এবং মাদক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। পুলিশের এই সাফল্যে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
মতামত