কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় কারখানার ম্যানেজার ও ফোরম্যান আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানায় নয়জনকে নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কারখানার মালিক মোনোয়ার হোসেন অপু বলেন, এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং মাসিক এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। দাবি পূরণ না করায় হামলা চালানো হয়েছে বলে তার অভিযোগ। তবে মামলার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কারখানার ম্যানেজার অলিউল্লাহ জানান, তিনি এক মাস ধরে এখানে কর্মরত। তার ভাষ্য, চাঁদার চাপ কিছুদিন ধরেই ছিল। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় কারখানা চালু রাখা হলেও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।
শ্রমিকরা বলেন, জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময় তারা অনিশ্চয়তায় থাকেন। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনকে জড়ানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তার নাম টানা হয়েছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন জানান, কারখানাটি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় রয়েছে এবং মামলাটি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্প পুলিশ। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনো জমা পড়েনি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের একাংশ সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।
মতামত