সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপিতে মাইনাস-প্লাস রাজনীতি: ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুবিধাবাদীদের জয়জয়কার

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপিতে মাইনাস-প্লাস রাজনীতি: ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুবিধাবাদীদের জয়জয়কার

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১:৩৯

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে মাইনাস-প্লাস খেলায় মেতে উঠেছেন প্রভাবশালী শীর্ষ নেতারা। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার, ঝুট ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি এবং মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন, তারাই এখন ভোল বদলে বিএনপির মঞ্চ দখল করেছেন। মোটা অঙ্কের আর্থিক বিনিময়ে এসব সুবিধাবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছেন দলেরই কিছু প্রভাবশালী নেতা।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত সরকারের সময় যারা জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আজ তারাই নিজ দলে পরবাসী। অথচ যারা দুঃসময়ে প্রবাসে ছিলেন বা দেশে থেকেও আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সুবিধা নিয়েছেন, তারা এখন বড় নেতা সেজে খবরদারি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা বিএনপির এক সদস্য বলেন, কার ভূমিকা কী ছিল আমরা সব জানি। যারা আওয়ামী লীগের এমপির ঘনিষ্ঠ ছিল, তারাই এখন বিএনপির বিপ্লবী নেতা হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমালোচনা করে বলেন, আপনার অগোচরে আপনার নাম ব্যবহার করে ফ্যাক্টরি দখল হচ্ছে। সোনারগাঁ থেকে লোক এসে সিদ্ধিরগঞ্জে মাস্তানি করছে। যারা আওয়ামী লীগের সময় লুটপাট করেছে, তারাই এখন আপনার সাথে বসে কমিশন বাণিজ্য করছে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করলে নেতাকর্মীরা তাদের অধিকার নিজেরাই আদায় করে নেবে।

অন্যদিকে, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যাদের দেখা যায়নি, এখন তারাই কার্যালয়ে মিটিং করে। আমাদের মতো ত্যাগীদের বাদ দিয়ে দল চালালে ভবিষ্যতে রাজপথে আর কাউকে পাওয়া যাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হাইব্রিডদের দাপট চলতে থাকলে সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, অনতিবিলম্বে এসব মাইনাস-প্লাস রাজনীতি বন্ধ করে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হোক, অন্যথায় তৃণমূলের এই ক্ষোভ বড় ধরনের বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে।