বোর্ড পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল খাতা এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জেলা শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার খাতা উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হাঁটার সময় শহীদ মিনারের পাশে একটি বান্ডিল পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন যুবক। কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলো এসএসসি পরীক্ষার লিখিত উত্তরপত্র। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানরা সারা বছর কষ্ট করে পরীক্ষা দেয়, অথচ সেই খাতা রাস্তায় পড়ে থাকে। আমরা এখন কার ওপর ভরসা করব?
কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, খাতা উদ্ধারের এই ঘটনা তাদের ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বারবার এমন গাফিলতি প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্টদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ মে একই এলাকার পাশ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ১১টি পরীক্ষার খাতা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরপর দুটি একই ধরনের ঘটনা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, উত্তরপত্রগুলো বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কার অবহেলায় খাতাগুলো বাইরে এল, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতামত