সারাদেশ

সোনারগাঁওয়ে পাওনা টাকার জেরে ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যা: বাবা-ছেলে পলাতক

প্রিন্ট
সোনারগাঁওয়ে পাওনা টাকার জেরে ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যা: বাবা-ছেলে পলাতক

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০২৬, রাত ১০:৩৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে এক নির্মাণ ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিন দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল রবিবার ভোরে তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা ও দুই ছেলে পলাতক রয়েছেন।

নিহত নুরুদ্দিন ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার আবদুর রবের বাড়ির নির্মাণকাজ করেন নুরুদ্দিন। কাজ শেষে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে আরও কাজ করতে চাপ দেওয়া হতো। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়।

নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার ও প্রত্যক্ষদর্শী ভাই মিজান রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে আবদুর রব ও তার দুই ছেলে জাহিদ হৃদয় এবং মেহেদী হাসান শুভ নুরুদ্দিনকে বাসা থেকে রাস্তায় ডেকে নেন। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নুরুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। তিন মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন নুরুদ্দিন। প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, হত্যার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।