স্বচ্ছলতার আশায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা গবাদিপশু চুরি যাওয়ায় অনেক পরিবারই এখন পথে বসেছে। প্রতিটি চুরি প্রায় একই কায়দায় হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে পৌরসভার মালঞ্চা হঠাৎপাড়া গ্রামের বিপুল হোসেন ও তার ভাই তাইবুর রহমানের বাড়ি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি গাভী ও বাছুর চুরি হয়।
এর আগে ২৩, ২৫ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৪, ৫, ১৪ ও ১৯ মে উপজেলার পাটাবুকা, ঢাকাইয়া পট্টি, ভীমপুর, নন্দীগ্রাম, দমদমা, ছোট মানিক ও চিকনমাটিয়া গ্রামে হানা দেয় চোর চক্র। এসব ঘটনায় অন্তত ১৩টি বিদেশি জাতের গরু, ল্যাপটপ, নগদ কয়েক লাখ টাকা এবং ২২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটে।
নাকুরগাছী এলাকার ভুক্তভোগী লাভলু মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, ১৫ দিন হলো আমার আয়ের একমাত্র উৎস দুটি হালের বলদ চুরি হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো সন্ধান পাইনি; উল্টো পুলিশ আমাকেই চোরের সন্ধান নিয়ে জানাতে বলছে। স্থানীয় সমাজসেবক আমজাদ হোসেনের মতে, এলাকায় মাদকাসক্তি এবং অনলাইন জুয়ার (ক্যাসিনো) প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় যুবসমাজের একটি অংশ এসব চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও চোর চক্রকে ধরার বিষয়ে পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন করা হচ্ছে।
মতামত