শনিবার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) কংগ্রেস-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত খাল খনন কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল হলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক নির্দিষ্ট ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
তামাক চাষের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, অধিক মুনাফার আশায় এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রভাবের কারণে অনেক কৃষক তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ চাষ নিরুৎসাহিত করতে বিকল্প লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড় দমন এবং জৈব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে সরকার একটি পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা গেলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পাবেন। এ লক্ষ্যে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাটের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, কৃষি উৎপাদনে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উৎপাদনের পাশাপাশি মানসম্মত কৃষিপণ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কৃষক এবং কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
মতামত