সারাদেশ

নাসির হত্যা মামলার আসামি শরিফকে আদালতে গণপিটুনি, ৫ দিনের রিমান্ড

প্রিন্ট
নাসির হত্যা মামলার আসামি শরিফকে আদালতে গণপিটুনি, ৫ দিনের রিমান্ড

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৪

ফতুল্লার চানমারী এলাকার আলোচিত ডিশ ব্যবসায়ী নাসির হত্যা মামলার প্রধান আসামি শরিফকে আদালতে হাজির করার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয় উপস্থিত লোকজন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আসামিকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য শরিফকে হাজির করা হলে এ ঘটনা ঘটে। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা খুনির ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে আদালত চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, প্রধান আসামি শরিফ গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন। রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার তাকে আদালতে আনা হলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

গত ১৪ মে ফতুল্লার চানমারী মাউরাপট্টি এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নৃশংস হামলায় নিহত হন ডিশ ব্যবসায়ী নাসির। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি শরিফ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নাসিরের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও গুরুতর আহত হন নাসির।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত নাসিরের পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত শরিফ আত্মসমর্পণ করলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।