আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে আহত ও অবহেলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ইয়াদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নয়া দিগন্তের ফটো সাংবাদিক সবুজ, জাগো নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মোবাশ্বর শ্রাবন, দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আল-আমিন প্রধান, একাত্তর বাংলার আল আমিন, টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ, বাংলার চোখের সাইফুল ইসলাম, বাংলা বাজারের ইউসুফ আলী প্রধান এবং এনএএন টিভির শাহজাহান চৌধুরী মাসুম।
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন, জেলা তথ্য অফিস ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আহ্বানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও এখনও তারা সরকারি তালিকাভুক্তির আওতায় আসতে পারেননি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠন আহত-নিহত নাগরিকদের খোঁজখবর নিলেও, মাঠের এই সংবাদকর্মীদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সেই রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেছি, রক্তাক্ত হয়েছি। কিন্তু আজ দুই বছর পর এসে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি, যে নতুন বাংলাদেশের জন্য আমরাও রক্ত দিলাম, সেই বাংলাদেশে আজ কেউ একটা ফোন দিয়েও আমাদের খোঁজ নেয়নি। আমরা আর্থিক অনুকম্পা চাই না, কিন্তু মাঠের সাংবাদিকদের এই চরম অবহেলা সত্যিই বেদনার।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেকোনো আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে যখন দেশজুড়ে নানা আয়োজন চলছে, তখন শরীরে ক্ষতের দাগ বয়ে বেড়ানো মাঠের লড়াকু সাংবাদিকদের পাশে না দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের এক বড় ব্যর্থতা।
মতামত