সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যা: ১৫ দিনেই পিবিআইয়ের হাতে স্বামী গ্রেপ্তার

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যা: ১৫ দিনেই পিবিআইয়ের হাতে স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:৫২

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার ক্লুলেস মামলার মূল রহস্য মাত্র ১৫ দিনে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মূল অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণী ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, প্রেম করে বিয়ের পর থেকেই সোহাগ ও তানিয়ার দাম্পত্য জীবনে অভাব-অনটন ও পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। গত ২৬ জুলাই ঝগড়ার একপর্যায়ে সোহাগ স্ত্রী তানিয়াকে নিজ হাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে এবং নিহতের নাকের স্বর্ণের নাকফুলটি খুলে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

ঐ দিন সকালেই সোহাগ তার স্ত্রীর খালা নাছিমা আক্তারের কাছে বাসার চাবি দিয়ে বলেন, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে। তবে সোহাগের আচরণে সন্দেহ হলে নাছিমা আক্তার বাসায় গিয়ে দরজার তালা খুলে মেঝেতে তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ক্লুলেস থাকায় তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সোহাগের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং কৌশলগত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে তানিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় অন্য কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।