নেত্রকোনা জুড়ে হেমন্তের শেষে শীতের আগমনী বার্তা এসেছে। শীত শুরু হতেই জমে উঠেছে হরেক রকম পিঠার বেচাকেনা। অগ্রহায়ণের শেষভাগে ভোর ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই নেত্রকোনার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশন ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী পিঠার দোকানে গরম গরম পিঠার ধোঁয়া এবং পিঠাপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গোধূলী বেলায় হালকা কুয়াশা নামতে না নামতেই জেলা ও উপজেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় বাজারগুলোতে মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা ভাঁপা ও চিতই পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও সন্ধ্যায় চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। ক্রেতাদের ভিড় শিশু-কিশোর, বৃদ্ধসহ প্রায় সকল বয়সী মানুষ অস্থায়ী পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। অনেকে সেখানে দাঁড়িয়ে বা বসে খাচ্ছেন, আবার অনেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাসাবাড়িতে।
ভাঁপা পিঠা প্রতিটি ২০ টাকা, নারকেল ও গুড় দিয়ে বানানো হয়। চিতই পিঠা প্রতিটি ১০ টাকা। সঙ্গে ধনেপাতা, শুঁটকি, মরিচ, সরিষা ভর্তা দেওয়া হয়। পৌর শহরের রেলক্রসিং এলাকার বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বৃদ্ধ মা, পঙ্গু স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০ পিস ভাঁপা ও চিতই পিঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাভ হয়।
অন্যান্য উপজেলার (বারহট্টা, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, মদন) পিঠা বিক্রেতারা জানান, এই সময়ে পিঠা বেশি বিক্রি হলেও সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কম। তবে প্রতিদিন তারা দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন, যাতে লাভ হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
উকিলপাড়া এলাকার শিপন, জাকন মিয়া, গোপালপুর এলাকার সুমন ও অসীত জানান, আগে বাড়িতে মা-চাচীরা পিঠা বানাতেন, এখন সময় বা সুযোগ না থাকায় বাইরে দোকান থেকে চিতই ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যান।
বড় স্টেশনের কুলি সর্দার রহিস উদ্দিন বলেন, এখন চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার চিরায়ত দৃশ্য না পাওয়া গেলেও রেলস্টেশনে বা রাস্তার মোড়ে পিঠা বিক্রি হওয়ায় খাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ এলাকার আমেনা খাতুন জানান, চাল ভেঙে আটা করে পিঠা বানানোর সুযোগ হয় না, তাই স্বল্প দামে হাতের নাগালে পিঠা পাওয়ায় তারা প্রায়ই কিনে খান।
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নেত্রকোনা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল মন্তব্য করেন যে, ভাঁপা পিঠা গ্রামীণ বাংলার দেশীয় সংস্কৃতিকে লালন করছে। একইসঙ্গে, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অল্প পুঁজি ও পরিশ্রমে ভালো লাভ পাওয়ায় বেকারত্ব দূরীকরণে ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
মতামত